পাবনায় করোনা আতঙ্কে 'ইতালি পাড়া', কোয়ারেন্টাইনে ৭০


পাবনায় করোনা ভাইরাস আতঙ্কে মধ্যে রয়েছে সদর উপজেলার দোগাছি ইউনিয়নের ইতালি পাড়ার সাধারন মানুষ ও পরিবারের সদস্যরা। এলাকার নাম বিশ্বাস পাড়া হলেও প্রায় প্রতিটি পরিবারের সদস্যরা ইতালীতে অবস্থানের কারনে সকলে ইতালি পাড়া নামে ডেকে থাকেন। এই ইউনিয়নের চারটি মহল্লায় প্রায় তিনশতাধীক নারী পুরুষসহ অনেকে স্বপরিবারে ইতালিতে অবস্থান করছেন বর্তমানে। সম্প্রতি চলতি মাসে দেশে ফিরেছেন চারজন ইতালি প্রবাসী। দেশে আসার পরে স্বাভাবিক ভাবে চলাচল করার চেষ্টা করলেও প্রশাসন ও এলাকাসীর উদ্যোগে তাদের ঘড় থেকে বের হতে দেয়া হচ্ছে না। তবে চরম আতঙ্ক ও উৎকন্ঠার মধ্যে রয়েছে এই অঞ্চলের সাধারন মানুষ ও প্রবাসীদের পরিবারের সদস্যরা।

গতকাল দুপুরে স্বরজমিনে গিয়ে দেখা যায় এই অঞ্চলের সাধারন মানুষ চরম আতঙ্ক আর প্রবাসে থাকা পরিবারের সদস্যদেরনিয়ে চরম উৎকন্ঠার মধ্যে রয়েছে। তাদের কাছে থেকে পাওয়া ইতালীতে অবস্থানরত পরিবারের সদ্যদের কথা জানতে পারাযায়। সচেতনা আর সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করছেন যেনো রোগ মুক্ত থাকে এলাকা ও পরিবার সদস্যরা।

স্থানীয়রা বলছেন, যারা বিদেশ থেকে এলাকাতে এসেছেন তাদেরসহ তাদের পরিবারের সদস্যদের আলাদা থাকার পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। পুলিশ প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ প্রতিনিয়ত খেঁাজ খবর রাখছেন তাদের উপর। আমরাও নিজেরা তাদের হাট বাজার বা দোকানে আসতে বাড়ন করছি। কারন ওই মানুষটি আপন হলেও কিন্তু রোগটি আপন না। এক জনের কারনে পুরো এলাকার মানুষকে বিপদে বা ঝুকির মধ্যে ফেলতে পারে না কেউ। তাই সকলে আমরা তাদের কাছ থেকে দূরে থাকছি এবং তাদের আলাদা থাকার পরামর্শ প্রদান করছি বলে জানান তারা।

সদর উপজেলাতে যেহেতু এই ধরনের বিশেষ পাড়া আর নেই তাই এই এলাকার দিকে বিশেষ নজর রয়েছে প্রশাসনের। সচেতনতা বৃদ্বির জন্য জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও দোগাছি ইউনিয়নে পরিষদের উদ্যেগে প্রতিটি মসজিদের ইমামদের নিয়ে বৈঠক করেছেন  ইউনিয়ন পরিষদের কর্তৃপক্ষ। ইউনিয়নের সকল স্বাস্থ্যকর্মীদেরকে বিশেষ ভাবে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) আতঙ্কের মধ্যে  রয়েছে পুরোবিশ্ব। আর এশিয়ার দেশ গুলির মধ্যে সবচাইতে বেশি ঝুকিতে রয়েছে বাংলাদেশ। সম্প্রতি বাংলাদেশে করোনা আক্রান্ত একজন রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।

চলতি বছরের জানুয়ারী মাস থেকে এখন পর্যন্ত পাবনাতে বিদেশ থেকে দেশে এসছেন প্রায় তিনহাজার প্রবাসী। এদরে মধ্যে গত মার্চ মাসের ৭ তারিখ থেকে যারা দেশে এসেছেন এই ধরনের প্রবাসীদের মধ্যে বর্তমানে পাবনাতে হোম কোয়ারেন্টাইননে আছেন ৭০ জন। এদরে মধ্যে দুইনজন প্রবাসীর সময় শেষ হওয়াতে তাদের স্বাভাবিক ভাবে চলাচলের জন্য ছাড় পত্র দিয়েছেন জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

জেলায় ১০/১২ টি এলাকার নাম করণ হয়েছে প্রবাসীদের জন্য। যে দেশে যে অঞ্চল বা মহল্রার মানুষ বেশী রয়েছে সেই এলাকাকে সেই দেশের নামে পরিচিত হয়েছে। জেলার বেড়া উপজেলার কাশিনাথপুর, ইশ্বরদী, আটঘোরিয়াসহ উপজেলার বিভিন্ ইউনিয়নে প্রচুর পরিমান প্রবাসী রয়েছে বলে জানা গেছে।