অনিয়মের প্রতিবাদ করায় পাবনা এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলীকেই প্রাণনাশের হুমকি


পাবনা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী একেএম বাদশা মিয়াকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন ঠিকাদার ও তার ম্যানেজার। এ ঘটনায় পাবনা সদর থানায় ডায়েরি করেছেন নির্বাহী প্রকৌশলী।

জানা যায়, এলজিইডি আরটিআইপি-২ প্রকল্পের আওতায় পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার শরৎনগর জিসিএম-বনওয়ারিনগর জিসিএম সড়ক পূনর্বাসন কাজটি করছেন পাবনা সদরের পাটিকিয়া বাড়িস্থ ঠিকাদার জিন্নাত আলী জিন্নাহ। ওই কাজে ২৮/৩০ ট্রাক নিম্নমানের ইটের খোয়া ব্যবহার করছিল ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। নিম্নমানের ইটের খোয়া রাস্তা নির্মাণ কাজে ব্যবহার করতে নিষেধ করায় অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হয় এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী একেএম বাদশা মিয়াকে।

নির্বাহী প্রকৌশলী থানায় দায়েরকৃত জিডিতে উল্লেখ করেছেন, রাস্তাটির পুনর্বাসন কাজে ইটভাটা থেকে ভাংগা নিম্নমানের ইটের খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে। এমন অভিযোগ পেয়ে ভাঙ্গুড়া উপজেলা প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর হোসেন ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী বাবুল আক্তার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে নিম্নমানের ইটের খোয়া ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে নিষেধ করেন। কিন্তু তাদের নিষেধ তোয়াক্কা না করে ঠিকাদার নিম্নমানের খোয়া দিয়ে সড়ক নির্মাণ করছেন। ঠিকাদার জিন্নাত আলী জিন্নাহ এর আগেও জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার লক্ষীকুন্ডা ও জেলার আতাইকুলাতে পৃথক ভাবে ৩৬ ট্রাক নিম্নমানের খোয়া জব্দ করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার কাজের খোয়াগুলো ধানুয়াঘাটা ইউনুছ আলী ডিগ্রী কলেজ মাঠে স্তুপ করে রাখা হয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ও পরিবেশের ক্ষতি করছে। ঠিকাদারের দাবী, কলেজ অধ্যক্ষকে টাকা দিয়েই খোয়াগুলো রাখা হয়েছে। অবশ্য অধ্যক্ষ তোরাব আলী বলেন, টাকা নয়, এলাকার কাজ তাই খোয়াগুলো রাখতে দেয়া হয়েছে।

নির্বাহী প্রকৌশলী একেএম বাদশা মিয়া জানান, গত ১৩ মার্চ রাত ১১ টার সময়ে একটি মোবাইল নাম্বার থেকে ঠিকাদার জিন্নাত আলী জিন্নাহ’র পার্টনার নজরুল ইসলাম ঝন্টু আমাকে ফোন দিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। তিনি আমাকে দেখে নেয়া ও প্রাণনাশের হুমকিও দেন। এ বিষয়ে ঠিকাদার জিন্নাত আলী জিন্নাহ’র সাথে যোগাযোগ করলে প্রথমে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করেন। পরে নিম্নমানের ইটের খোয়া দিয়েই কাজ বাস্তবায়ন করবেন এমন চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন আমাকে। তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করে নিম্নমানের খোয়া দিয়ে রাস্তা নির্মাণের কাজ জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপে বন্ধ করে দিয়ে এসেছি। এ ঘটনায় জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে পাবনা সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছি।

অভিযুক্ত ঠিকাদার জিন্নাত আলী জিন্নাহ’র সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সবই মিথ্যা। নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে সামান্য ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। ঠিক হয়ে যাবে। এদিকে ঠিকাদার জিন্নাতের পার্টনার অভিযুক্ত নজরুল ইসলাম ঝন্টুর সাথে মুঠোফোনে একাধিক বার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসিম আহমেদ জিডির বিষয়ে সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।