যেভাবে পানির নিচে ১৩ ঘণ্টা বেঁচে ছিলেন সুমন! বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা?



বুড়িগঙ্গায় লঞ্চডুবির ঘটনায় সুমন বেপারি (৩২) নামের এক যাত্রীকে নদী থেকে ১৩ ঘণ্টা পর জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। ওই লঞ্চ যাত্রীকে উদ্ধারের ঘটনায় অনেকে বলছেন, 'রাখে আল্লাহ মারে কে?,' কেউ বলছে, 'নিশ্চয়ই এর পেছনে বৈজ্ঞানিক কোনো ব্যাখ্যা রয়েছে।'

প্রশ্ন ওঠেছে, পানির নিচে ডুব দিয়ে কতক্ষণ থাকা যায়? জবাবে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাজ্জাদ হোসেন জানান, সাধারণত পানির নিচে ডুবে গেলে যে কোনো মানুষ এক মিনিট থেকে সর্বোচ্চ দেড় মিনিটের মধ্যে অক্সিজেনের অভাবে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়াটাই স্বাভাবিক ঘটনা।

এক্ষেত্রে পানির ভেতরে ১৩ ঘণ্টা কীভাবে বেঁচে থাকা সম্ভব? জবাবে ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক বলেন, দুর্ঘটনার সময় ধাক্কা খেয়ে লঞ্চটি হঠাৎ উল্টে যায়।এতে এটি কয়েক সেকেন্ড সময়ের মধ্যে পানিতে তলিয়ে যায়। লঞ্চটি পানির নিচে উল্টে যাওয়ায় বাতাস আটকে থাকে অর্থাৎ এয়ার পকেট তৈরি হয়। সম্ভবত সুমন বেপারি যেখানে অবস্থান করছিলেন সেখানে পানি প্রবেশ করেনি এবং সুমণ বেপারি এয়ার পকেট থেকে অক্সিজেন নিয়েই বেঁচে ছিলেন। এটাই একমাত্র কারণ, এ ছাড়া দ্বিতীয় কোনো কারণ নেই।

তিনি আরো বলেন, রাত আনুমানিক ৯টা ৩০ মিনিটে ডুবুরিরা যখন টিউবের মাধ্যমে লঞ্চটি ওপরে তোলার চেষ্টা করছিলেন এবং লঞ্চটির একাংশ ওপরে উঠে আসছিল ঠিক তখনই সুমন বেপারি লঞ্চ থেকে বেরিয়ে আসেন।

ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা বিভাগের উপপরিচালক দেবাশীষ বর্ধন  বলেন, ‘নদীতে অনেক পানি থাকায় উদ্ধারকারী জাহাজ ব্রিজে আটকে ছিল। সেজন্য ফায়ার সার্ভিস হেয়ার লিফটিং ব্যাগের মাধ্যমে যখন লঞ্চের অংশ বিশেষ উপরে তুলে ফেলে তখন ভেতর থেকে একজন ভেসে উঠেন। পরে আমরা তাকে উদ্ধার করি। উদ্ধার করে অ্যাম্বুলেন্সে তুলি। একটা সময় তিনি চোখ মেলে তাকান।’

সুমন বেপারিকে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। বর্তমানে তিনি পুরান ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সুমন বেপারি পেশায় একজন ফল ব্যবসায়ী এবং তার বাড়ি মুন্সিগঞ্জের আব্দুল্লাহপুর বলে জানা গেছে।