করোনাকে তোয়াক্কা না করে পাবনার তিন বিনোদনকেন্দ্রে মানুষের ভিড়


মহামারি করোনাভাইরাসে যখন সারা বিশ্ব স্থবির হয়েআছে। ঠিক তখনই মুসলমানদের দ্বিতীয় ধর্মীয় উৎস ঈদুল আযহা পালিত হলো। দীর্ঘ দিন মানুষ ঘর বন্দি একঘেয়ে জীবন পার করছে।  তাই বলে ঈদের আনন্দতো আর বাড়িতে বসে কাটানো যায় না। যদিও দেশের সকল বিনোদন পার্কগুলো সতর্কতার জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে।

তাই বলে কি আনন্দ উপভোগ করা যাবে না?  ঘরবন্দি সময়ের একঘেয়েমি কাটাতে অনেকেই ছুটে গেছেন প্রকৃতির সান্নিধ্যে। পাবনায় তিনটি বিনোদনকেন্দ্র পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রীজ, শিলাইদহ ঘাট এবং বেড়া উপজেলা হুরাসাগর পোর্টে ঘুরতে এসছেন অনেকেই। মহামারির তোয়াক্কা না করেই আনন্দে মেতে উঠতে দেখা গেছে ভ্রমণকারীদের।

শিশুদের ছোটাছুটি, উচ্ছ্বাস, তরুণদের গল্প-আড্ডা-গান আর সেলফি নিয়ে ব্যস্ত থাকতে দেখা গেছে। উৎসবের আনন্দে মেতে উঠতে এভাবেই পদ্মা নদীর শিলাইদহ ঘাট এলাকা, হার্ডিঞ্জব্রীজ পয়েন্টে এবং বেড়া উপজেলার হুরাসাগর নদের পাড়ে ভীড় জমান তারা। বিনোদনকেন্দ্রগুলো খোলেনি এখনো। তাই মুক্ত বাতাসে নিঃশ্বাস নেবার এই প্রয়াস। ঘরের বাইরে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক হলেও অনেককেই তা মানতে দেখা যায়নি। শারীরিক দূরত্বেরও ছিল না বালাই। মহামারি শেষে পাবনা ফিরে পাবে আপন রূপ। স্বাভাবিক হবে জনজীবন, এমন প্রত্যাশা তাদের।


শত বছরের হার্ডিঞ্জব্রীজের কারুকার্য এবং নয়নাভিরাম সৌন্দর্য দেখে দর্শককরা অভিভূত হয়ে পড়েন। যারা একবার এখানে এসছেন তাদের বার বার দেখার জন্য ব্রীজটি হাতছানি দেয়। আর এ জন্যই বছর জুড়ে সেখানে থাকে মানুষের পদচারণা।

এদিকে ভরা বর্ষায় ফুলে-ফেঁপে অনেকটা সাগরের আমেজ সৃষ্টি করে হুরা সাগর। বেড়া পৌরসভার পোর্ট নামক স্থানে হুরাসাগরপারে দাঁড়ালে যে-কারোরই মন আনন্দে ভরে ওঠে। এই আনন্দ আরও বেড়ে যায় ইঞ্জিনচালিত নৌকা ভাড়া করে নদের বুকে ঘুরে বেড়ানোয়। তাই পুরো বর্ষায় ওই স্থানে ভিড় লেগে থাকে। আর ঈদের মতো উৎসব এলে তো কথাই নেই। ভালো যোগাযোগব্যবস্থার কারণে একপর্যায়ে ওই এলাকা মানুষের কাছে ভ্রমণের আদর্শ জায়গা হিসেবে গড়ে ওঠে। সবার কাছে জায়গাটির নাম পোর্ট বলে পরিচিতি পায়। শুধু বেড়া উপজেলাই নয়, পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন উপজেলার মানুষ, এমনকি পাবনা ও সিরাজগঞ্জ শহরের মানুষও প্রতিদিন পোর্টে বেড়াতে আসে। ঈদুল আযহা উপলক্ষে মানুষের ভীড় এবার ব্যাপক বেড়ে গেছে।

পোর্ট এলাকায় বাঁধের সড়কের ওপর মেলার মতো পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। সেখানে বাচ্চাদের খেলনা থেকে শুরু করে খাবারের অসংখ্য দোকান বসেছে।

বাঁধানো ঘাটজুড়ে ৪০ থেকে ৫০টি ইঞ্জিনচালিত নৌকা দেখতে পাওয়া যায়। বেড়াতে আসা লোকজন সেগুলো ঘণ্টা হিসাবে চুক্তি করে হুরাসাগর নদের আশপাশে বেড়াতে যাচ্ছেন। একটি নৌকার মাঝি মোহম্মাদ আলী বলেন, ‘এমনিতে আমরা প্রতি ঘণ্টার জন্য দেড় থেকে দুই শ টাকা নিই। কিন্তু ঈদের জন্য কিছুটা বেশি নিচ্ছি।

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলা থেকে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে বেড়াতে আসা মাসুম মিয়া বলেন, ‘এই জায়গাটি ছাড়া আশপাশে বেড়ানোর তেমন ভালো জায়গা নেই। এখানে কক্সবাজার বা কুয়াকাটা সৈকতের আমেজ পাই। তাই ছুটি পেলে এখানে প্রায়ই বেড়াতে আসি।’

বেড়া পৌর এলাকার বাসিন্দা ও স্থানীয় একটি কলেজের শিক্ষক বলেন, ‘পোর্ট এলাকাটি অন্যতম বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছে। আমরা তো এখানে বেড়াতে আসিই, বাড়িতে আত্মীয়স্বজন এলে তাদেরর স্থানটি দেখানোর জন্য আনা হয়।’

এ তিনটি বিনোদন কেন্দ্র শুধু পাবনাবাসী নয়; দেশের দূরদূরান্ত থেকেও ভ্রমণপ্রেমিকরা বেড়াতে আসছেন এবং আনন্দ উপভোগ করছেন। একটু হলেও প্রকৃতির সান্নিধ্য উপভোগ করেন উত্তরাঞ্চলের ভ্রমণকারীরা।