পাবনায় করোনাকালে কলেজ মাঠে ফসল চাষ, বিক্রি করে হচ্ছে ফুল বাগান


করোনার কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ। আবার স্বাস্থ্যবিধি মোতাবেক নিরাপদ সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা উচিত। এমন পরিস্থিতিতে কলেজ মাঠের ৬ বিঘা জমির যথাযথ ব্যবহার করেছেন পাবনার ভাঙ্গুড়ায় সরকারি হাজী জামাল উদ্দীন ডিগ্রী কলেজ কর্তৃপক্ষ।

তারা কলেজের ৬ বিঘা মাঠ জুড়ে স্বল্প সময়ের ফসল কলাই (ডাল ফসল) চাষ করেছেন। সম্প্রতি গো-খামারিদের কাছে ঘাস হিসেবে ৩০ হাজার টাকায় তা বিক্রিও করেছেন। এই টাকায় কলেজে একটি সুন্দর ফুলের বাগান করা হবে বলে জানিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

সরকারি হাজী জামাল উদ্দীন ডিগ্রী কলেজে গিয়ে দেখা যায় প্রাচীর ঘেরা কলেজ মাঠে মাসকলাই (ডাল ফসল) আবাদ করা হয়েছে। বিশাল মাঠে লকলকে সবুজ কলাই বেড়ে উঠেছে। আর সে কলাই খাচ্ছে ঘাস কিনে নেয়া খামারিদের একদল দুধেল গাভী।

খেলার মাঠ অহেতুক ফেলে না রেখে নিয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষর এ উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় জনসাধারণ ও অভিভাবক মহল।

স্থানীয় কয়েকজন বিদ্যোৎসাহী ও অভিভাবক জানান, কলেজ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ। তাই মাঠটি অহেতুক ফেলে রাখার চেয়ে কর্তৃপক্ষ কাজে লাগিয়েছেন। চলনবিল পাড়ের এ এলাকার গো বাথানগুলো এখন পানির নিচে। গো-খাদ্যের চরম সঙ্কট। এমন উদ্যোগে কলেজ ফান্ডে যেমন কিছু টাকা আসলো তেমনি অলস পড়ে থাকা মাঠের ঘাসে উপকৃত হলেন কয়েকজন গো-খামারি। জমির যথাযথ ব্যবহার করে তারা বরং ভাল কাজ করেছেন।

জনৈক অভিভাবক ফজলুর রহমান বলেন, করোনাকালীন সময়ে একসাথে সমবেত হওয়াটাই ঝুঁকিপূর্ণ। তাই কলেজ মাঠে সাময়িকভাবে খেলাধুলা বন্ধ থাকলেও তা সবার জন্য মঙ্গলজনক। আবার দীর্ঘদিন মাঠটি এমনি করে ফেলে রেখেই বা কী লাভ হত? তার চেয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষ স্বল্প সময়ের ফসল কলাই ডাল বুনে দিয়ে ভালই করেছেন।

স্থানীয় এক কৃষক আব্দুল করিম জানান, মাসকলাই ঘাসের মধ্যেই ভাল হয়। তাই কলাই চাষ করলে মাঠের কোন ক্ষতি হবে না। কলাই পাকলেও কোন ক্ষতি হত না। যদিও কলেজ কর্তৃপক্ষ আরো আগেই মাঠ প্রস্তুত করে রাখার জন্য কাঁচা কলাই ঘাস হিসেবে বেচে দিয়েছেন।

এ বিষয়ে সরকারি হাজী জামাল উদ্দীন ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ শহিদুজ্জামান বলেন, করোনার কারণে কলেজ মাঠ পড়ে থাকায় কলেজের কিছু কর্মচারি এখানে কলাই বুনে দেয়ার উদ্যোগ নেন। কাঁচা কলাই ঘাস হিসেবে বেচা (বিক্রি) টাকা দিয়ে কলেজে একটি সুন্দর বাগান করা হবে।

তিনি জানান, আগামী ১০ দিনের মধ্যে কলেজ মাঠের কলাই শেষ হয়ে যাবে। অর্থ্যাৎ মাঠ পরিষ্কার হয়ে যাবে। এরপর করোনা সঙ্কট কেটে যাওয়ার পর বাগান তৈরির কাজ শুরু করা হবে।

পাবনার বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সমাজসেবক, পাবনা কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ (অব:) আলহাজ্ব মাহাতাব উদ্দিন বিশ্বাস বলেন, কলেজ কর্তৃপক্ষ করোনা সঙ্কটকালীন সময়ে একটি ভাল কাজ করেছেন। কারণ সামাজিক দূরত্ব সব জায়গায়ই তো বজায় রাখা দরকার। যার জন্য স্কুল -কলেজ বন্ধ। তাই মাঠটি ফেলে রাখার চেয়ে কলেজের আয় বর্ধনমূলক একটি কাজকে আমাদের ইতিবাচকভাবে দেখা দরকার।

সরকারি হাজী জামাল উদ্দীন কলেজের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি এবং ভাঙ্গুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ আশরাফুজ্জামান জানান, সরকারি কলেজের প্রাচীরবেষ্টিত মাঠে কলাই চাষ করা হয়েছে বলে তিনি শুনেছেন। কলাই বেচা টাকায় কলেজে একটি বাগান করা হবে বলে কলেজ অধ্যক্ষ তাকে জানিয়েছেন।